মতবিনিময় সভায় সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আশরাফুল ইসলাম
২৫০ শয্যার হাসপাতালে ৯০০ রোগীকে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে
- আপলোড সময় : ১৬-১০-২০২৬ ০৮:৪৫:২৯ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৬-১০-২০২৬ ০৮:৪৫:২৯ পূর্বাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার ::
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ২৫০ শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন প্রায় ৯০০ রোগীকে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। চিকিৎসক সংকট, অ্যাম্বুলেন্স না থাকাসহ নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে সেবা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। এসব সংকটের কথা তুলে ধরে হাসপাতালের সেবার মান উন্নয়নে গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা চেয়েছেন তত্ত্বাবধায়ক ডা. আশরাফুল ইসলাম সোহাগ।
বৃহঘএজতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে হাসপাতালের মিলনায়তনে জেলা সদরে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. আশরাফুল ইসলাম সোহাগ বলেন, ১০০ শয্যার হাসপাতালের জনবল দিয়ে বর্তমানে ২৫০ শয্যার কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। এর বিপরীতে রোগীর সংখ্যা প্রায় ৯০০ হওয়ায় চিকিৎসাসেবা দিতে নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে। এরপরও হাওর-বাওরবেষ্টিত এই জেলার প্রান্তিক মানুষের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে তারা কাজ করে যাচ্ছেন।
হাসপাতালের বিদ্যমান সংকট নিরসনে জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী ও সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। জেলার সংসদ সদস্যদের সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে উল্লেখ করে ডা. আশরাফুল ইসলাম সোহাগ আশা প্রকাশ করেন, সম্মিলিত উদ্যোগে হাসপাতালের সমস্যাগুলো পর্যায়ক্রমে সমাধান করা সম্ভব হবে। এতে চিকিৎসাসেবার মানও আরও উন্নত হবে।
তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া নাগরিকের অধিকার। এ অধিকার নিশ্চিত করতে হাসপাতালের জনবল, ওষুধ ও পথ্যের বরাদ্দ বাড়ানো প্রয়োজন। অ্যাম্বুলেন্স, লিফট, র্যা¤প নির্মাণ এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করা হচ্ছে। হাসপাতালের সমস্যাগুলো গণমাধ্যমে তুলে ধরা হলে সমাধানের উদ্যোগ আরও জোরালো হবে।
মতবিনিময় সভায় জানানো হয়, ২৫০ শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন ৭০০ থেকে ৯০০ জনের বেশি রোগীকে সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। হাসপাতালের ৪২১টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ২৫৫ জন। শূন্য রয়েছে ১৬৬টি পদ। হাসপাতালের চিকিৎসকের ৭৪টি পদের মধ্যে ৪৯টি এবং নার্সের ২৬৫টি পদের মধ্যে ৬৯টি শূন্য রয়েছে। এ ছাড়া চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের প্রায় ৮০ শতাংশ পদ শূন্য। জনবল সংকটের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে রোগীদের কাক্সিক্ষত সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
অপরদিকে, হাসপাতালে সনোলজিস্ট না থাকায় বন্ধ রয়েছে আলট্রাসনোগ্রাফি কার্যক্রম। অ্যাম্বুলেন্স অচল থাকায় জরুরি রোগী পরিবহনেও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। পাঁচটি ডায়ালাইসিস মেশিনের মধ্যে তিনটি সচল থাকলেও দুটি অচল। কিডনি বিশেষজ্ঞ না থাকায় জটিল রোগীদের ডায়ালাইসিস-পরবর্তী চিকিৎসাসেবাও সীমাবদ্ধতার মুখে পড়ছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর মাসে বহির্বিভাগে ২৫ হাজার ৮৯০ জন, জরুরি বিভাগে ১৪ হাজার ৯০ জন এবং অন্তর্বিভাগে ৫ হাজার ৪৬৯ জন রোগী সেবা নিয়েছেন। গত ১৩ অক্টোবর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ৭৫৭। ২৫০ শয্যার হাসপাতালটিতে ধারণক্ষমতার তুলনায় প্রায় তিন গুণ রোগী ভর্তি থাকায় চিকিৎসাসেবা ও রোগীদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মতবিনিময় সভায় সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, চিকিৎসক সংকটের কারণে রোগীদের কাক্সিক্ষত সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় বিভাগে জনবল সংকট পূরণ করা জরুরি।
সভায় উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীরা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালনের ঘাটতি, রোগীদের ওষুধ ও খাবারের সংকট এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার সীমাবদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তারা সেবার মান উন্নয়নে নজরদারি বাড়ানো এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন।
জবাবে তত্ত্বাবধায়ক ডা. আশরাফুল ইসলাম সোহাগ বলেন, হাসপাতালের অনিয়ম ও অসংগতি চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আউটসোর্সিংয়ে নিয়োজিত কোনো কর্মী নিয়মবহির্ভূত কাজে জড়িত থাকলে তাকে শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক সুনামকণ্ঠ